রাঙামাটি প্রতিনিধি:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনকে কেন্দ্র করে দলটির রাঙামাটি জেলা কমিটির সাতজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পদত্যাগ করা নেতারা হলেন—এনসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা, মিশন চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রণয় বিকাশ চাকমা, সদস্য বিনয় চাকমা ও সদস্য সুলেখা চাকমা।
পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, ‘২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে এসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি তার স্বতন্ত্র আদর্শ ছুড়ে ফেলে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। সেই আদর্শের সঙ্গে জোটে থাকা এবং সেই আদর্শ লালন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
এনসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা তার ফেসবুকে পদত্যাগপত্রের কপি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছিলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করে এনসিপিকে একসময় বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদে বিশ্বাসী একটি দল মনে হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটি তার স্বতন্ত্র আদর্শ থেকে সরে এসে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। এ অবস্থায় আমার পক্ষে সেই আদর্শ লালন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আজ থেকে দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিদায় নিলাম।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘আমার জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির অনেক নেতা নাকি পদত্যাগ করেছেন বলে শুনেছি। তবে এখনো আমার কাছে কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি। হঠাৎ করে গণহারে এভাবে পদত্যাগ করার কারণ কী—তা আমরা সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখব।’
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নির্বাচনের আগেই এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন ডা. তাসনিম জারা ও সামান্থা শারমিনসহ কয়েকজন নেত্রী।
